শেয়ার করুন
  •  
  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
- Advertisement -
জাতীয়২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল বাঙ্গালী জাতির কলঙ্কজনক অধ্যায়ের মধ্যে অন্যতম এক...

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল বাঙ্গালী জাতির কলঙ্কজনক অধ্যায়ের মধ্যে অন্যতম এক অধ্যায়।

শেয়ার করুন
  •  
  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আজও মনে পড়ে সেদিনের সেই ভয়াল মূহুর্তের কথা, শরীরে প্রবাহমান প্রতিটি রক্তকনিকাগুলো এখনো মনে করিয়ে দেয় মৃত্যু দুয়ার থেকে ফিরে আসার সেই সময়ের কথা।  ২১শে আগষ্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় সারা শরীরে রক্ত ঝরছে, রক্তে লাল হয়ে গেছে পরনের শার্ট। (ছবিতে) কাঁদছেন ড.হাছান মাহমুদ। এখনো শরীরে সেসময়ের ৪০টি স্প্রিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন।

গ্রেনেড হামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা, যে হামলায় ২৪ জন নিহত হয় এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা সহ প্রায় ৩০০ লোক আহত হয়। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী মিসেস আইভী রহমান অন্যতম, যিনি বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী।

২০০৪ সালের সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২১ আগষ্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল পাঁচটায় পৌঁছালে, একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে তিনি কুড়ি মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও ১২ জন নিহত হন।

এ ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া, চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শরীরে এখনও ৪০টি স্প্রিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ এমপি।

গ্রেনেডের ক্ষত ও সেদিনের দুঃসহ কষ্টের দিনগুলো তিনি এখনো এক মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারেননি। ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে তিনি অন্যতম রাজ স্বাক্ষী। দেশকে যোগ্য নেতৃত্ব হারা করতেই এই হামলা বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, গ্রেনেড হামলার মুহুর্তে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য অস্থায়ীভাবে ট্রাকের উপর তৈরিকৃত মঞ্চের পাশেই ছিলেন। ঘাতকদের গ্রেনেড হামলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনিসহ শেখ হাসিনার পাশে থাকা সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতারা মানব দেয়াল রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষার চেষ্ঠা করেন। এসময় তার শরীরে অসংখ্যা গ্রেনেডের স্প্রিন্টার বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তৎকালীন দুই নারী নেত্রীর সহযোগীতায় তিনি প্রথমে ঢাকার সিকদার মেডিকেলে ভর্তী হন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে বর্তমান রাষ্ট্রপতি এ্যাডঃ আবদুল হামিদ তার চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং খোজ খবর রাখেন সেখানে ৮ দিন থাকার পর
২৯শে আগস্ট তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বেলজিয়ামে যান।
সেখানে কয়েকটি স্প্রিন্টার বের করতে পারলেও এখনও ৪০টি স্প্রিন্টার তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।

২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রাজ স্বাক্ষী হিসেবে তিনি ২০১৫ সালের ৪ মে ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনকে সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করাই একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল।

ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, সেদিন ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন বিষ্ফোরিত আর্জেস গ্রেনেডের অসংখ্য স্প্রিন্টার তার শরীরে ঢুকে যায়। চিকিৎসায় কিছু স্প্রিন্টার বের করা হয়। বাকি অসংখ্য স্প্রিন্টার এখনো তার শরীরে রয়ে গেছে। যেগুলো বের করতে গেলে তার নার্ভ কেটে বের করতে হবে। ফলে তার মুত্যুও হতে পারে। তাই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাকি স্প্রিন্টার বের করেননি।

সেই সময় নিজের ফেসবুক একাউন্টে ২১ আগস্টের সময় আহত হওয়ার দুর্লভ ১ ছবি জুড়ে দিয়ে ইংরেজিতে স্ট্যাটাস দেন ড. হাছান মাহমুদ।
সেখানে তিনি লেখেন,

‘ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দৃশ্য এটি, আমি গুরুতর আহত। আমাদের দলের দুই নারী নেত্রীর সহায়তায় কোনোভাবে একটি বাসে উঠেছিলাম। সেদিন আমার জীবন রক্ষা করার জন্য তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। যখন আমি হাসপাতালের পথে তখন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মনে হচ্ছিল আমার সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। যদি আর এক ঘণ্টা দেরি হতো তাহলে সেদিন অন্যকিছু হয়ে যেতে পারতো। এখনো আমার শরীরের নিচের অংশে ৪০টি স্প্রিন্টার আছে। আমাদের সবার উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে সেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।’

ফেসবুকে দেয়া ছবিতে দেখা যায় গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ড. হাছান মাহমুদ রক্তে রঞ্জিত। তাঁর সারা শরীরে রক্ত ঝরছে। রক্তে লাল হয়ে গেছে পরনের শার্ট। কাঁদছেন হাছান মাহমুদ। খুলে গেছে শার্টের বোতাম। দলের নারী নেত্রী বর্তমানে ঢাকা জজকোর্টে আইনপেশায় নিয়োজিত অ্যাডভোকেট রুবিনা মিরা ও অপর এক নেত্রীর কাধে ভর দিয়ে হাসপাতালের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

এবিষয়ে সিকদার হাসপাতালে ড. হাছান মাহমুদের দেখভাল করা কয়েকজন নেতৃবৃন্দ জানান,
‘গ্রেনেড হামলায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে ঢাকা সিকদার হাসপাতালে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসারত ছিলেন তিনি।’

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ ও পৌরসভা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, তৎকালীন শেখ হাসিনার একান্ত সহকারী ড. হাছান মাহমুদ ছাত্রজীবনে চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক ছিলেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনার নির্দেশে পিএইচডি করতে বেলজিয়াম যান। সেখানে বেলজিয়াম আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এসময় বাংলাদেশের আলোচিত আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকান্ড নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তিনি নিন্দা প্রস্তাব উত্তাপন করেন। তৎকালীন জোট সরকারের বিভিন্ন দমন পীড়ন ও মানবাধীকার লঙ্গনের ঘটনায় বহির্বিশ্বে তিনি কুটনৈতিক তৎপরতা চালান। পরে পিএইচডি অর্জন শেষে দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার একান্ত সহকারীর দায়ীত্ব পালন করেন। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এস এম কিবরীয়ার সাথে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনিটরিং সেলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

পরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী রাজনীতিতে যুক্ত হন।

পরবর্তীতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। ১/১১ সময় তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের বিভিন্ন হুমকি ও রক্তচক্ষুর মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। প্রতিনিয়ত তাড়া করেছে গ্রেফতার ও গুমআতঙ্ক। তবুও এক মুহুর্তের জন্য তিনি ছেড়ে যাননি আওয়ামীলীগ ও আওয়ামীলীগ প্রধানকে।

এখনো আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে চারপাশে চলমান চক্রান্তের নীল-নকশা, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নানা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব কণ্ঠ, প্রতিবাদের মানুষ ড. হাছান মাহমুদ। প্রতিদিন বক্তৃতা, বিবৃতি ও গণমাধ্যমে কথা বলছেন তিনি। এজন্য তাঁকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে নিত্যনতুন হুমকির। আর এই হুমকি নিয়েই শেখ হাসিনার মিশন-ভিশন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন এই মানুষটি। প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন বর্তমান আওয়ামী লীগের অন্যতম ‘সিপাহশালার’ তিনি।

সচেতন মহল বলছেন ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাঙ্গালী জাতির বিভিন্ন কলঙ্কজনক অধ্যায়ের মধ্যে অন্যতম এক অধ্যায়।
৭০’এর নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলশ্রুতিতে ৯ মাস রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে নিশ্চিত হার যেনে আত্বসমর্পনের পূর্বে বুদ্ধিজীবি হত্যা, ৭৫’এর ১৫ আগস্টে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পরবর্তীতে জাতীয় ৪ নেতা সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্ঠা সবই যেন একই সুত্রে গাঁথা।

পরিশেষে, বাঙ্গালী জাতিকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার মানসেই নিসন্দেহে এই সব ধারাবাহিক ঘটনা। দেশের বিরুদ্ধে সকল জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করতে হবে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন বিকল্প নেই বলে এসময় তারা জানান।

জামিল চৌধুরী
সিনিয়র বার্তা সম্পাদক
দেশান্তর.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর

- Advertisement -

জনপ্রিয় খবর

অন্যান্য সংবাদ