শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
- Advertisement -
টিপসমাদকের ভয়াবহতা ও আমাদের করনীয়

মাদকের ভয়াবহতা ও আমাদের করনীয়

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মেহেদী হাসান রাব্ব (খুলনা ব্যুরো প্রধান)//

বিশ্বব্যাপী মানবসভ্যতার জন্য এক নিকষ কালো অধ্যায় মাদকাসক্তি।মাদক এক সর্বনাশা মরণনেশা।শহর থেকে গ্রামে এবং বৃদ্ধ থেকে তরুন সকল বয়সের, সকল পেশার লোকদের মধ্যেই এ ভয়ংকর নেশা ছড়িয়ে পড়ছে।বিশ্বের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি মানুষ এ মরন নেশায় আসক্ত।এর ফলে দুর্বল এবং নির্জীব হয়ে পড়ছে আমাদের জনশক্তি।রুদ্ধ হয়ে পড়ছে সামাজিক চিন্তাস্রোত।মানবিক মুল্যবোধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের দারুন অবনতি ঘটছে।ধুকে ধুকে মৃত্যুবরণ করছে আমাদের সমাজ,গোটা জাতি।

বাংলাদেশে মাদকাসক্তদের অধিকাংশই তরুন।অনেকে কৌতুহলবশে,অনেকে মাদকাসক্তি জীবনের জন্য মারাত্মক অভিশাপ জেনেও নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।তবে কোনো একটি সুনিদিষ্ট কারনে মানুষ মাদকাসক্ত হয় না।অনেকসময় ব্যক্তিগত,পারিবারিক ও নানাবিধ আর্থ সামাজিক পরিস্হিতি মানুষকে এ অভিশপ্ত জীবনের দিকে ঠেলে দেয়।তবে মাদকাসক্তির পেছনে দায়ী প্রধানকারন গুলো হলো:-
• কৌতুহল মেটাতে
• আসক্ত বন্ধ-বান্ধবদের চাপে পড়ে
• পারিবারিক অশান্তির কারনে
• বেকারত্ব ও নিঃসঙ্গতা থেকে
• হতাশা ও দুঃখবোধ থেকে
• মাদকদ্রব্যেরর সহজলভ্যতার কারনে
• মাদক ব্যবসায়ীদের সংস্পর্শে পড়ে
• চিত্তবিনোদনের অভাবে
• একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পাবার আশায়
• সাময়িক ভালো লাগার আকর্ষনে
আধুনিক মনোবিজ্ঞানীদের মতে,সুস্থ বিনোদনের অভাবে মানুষ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।

মাদকাসক্তির পরিনাম তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া।আর মাদকের ব্যবহার বর্তমানে বাংলাদেশে একটি জাতীয় সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে।মাদকের নেশায় আচ্ছন্ন মানুষ নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।খুন,ডাকাতি,ছিনতাই,রাহাজানি ইত্যাদি বেড়ে যায়।আসক্ত ব্যক্তির আচার-আচরনে দেখা যায় অস্বাভাবিকতা।স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে।যেমন- হৃদরোগ,যক্ষ্মা, ফুসফুসে পানি জমা,লিভারের জটিলতা, কিডনি রোগ,অপুষ্টি, ক্ষুধামন্দা, রক্তহীনতা, মস্তিষ্ক বিকৃতি,ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্বসহ নানা রকম রোগ,সর্বপরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।আসক্ত ব্যক্তির ভালো কাজের প্রতি অনীহা ও মন্দ কাজের প্রতি আকর্ষন ও মূল্যবোধের অবক্ষয় সমাজ জীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি যেহেতু পরিবারের বাইরেও সামাজিক জীবনযাপন করেন সেহেতু এর প্রভাব ব্যক্তি ও পরিবারের গন্ডি ছাড়িয়ে সমগ্র আর্থ সামাজিক কাঠামোর ওপর পড়ে এবং আসক্তিজনিত কুফলগুলো দ্বারা পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র সংক্রমিত হয়।সার্বিকভাবে দেশের উন্নায়ন কর্মকান্ড ও অগ্রগতি মারাত্বকভাবে ব্যাহত হয়।
মাদকাসক্তি চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমস্যা নয়।এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাধি।এটি সমাজ জীবনের এক নির্মম অভিশাপ।এ সর্বনাশা নেশার কবল থেকে মুক্তির জন্য সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন সরকারের সমন্বিত কার্যক্রম।চিকিৎষক,মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সমাজকর্মী, দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ দের সমন্বয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধের ব্যবস্হা গড়ে তুলতে হবে।যৌথ কর্মসুচীর মাধ্যমে মাদকমুক্ত করতে না পারলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এক্ষেত্রে প্রশাসন কে কঠোর ভুমিকা পালন করতে হবে।অনেক সময় আইনের রক্ষক হয়ে অনেকেই মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মিলে যায়।সামান্য কিছু টাকার জন্য বিবেকহীনতার পরিচয় দেয়।
জাতির জাগ্রত বিবেক সাংবাদিকদের কলমের মাধ্যমেই সকল নোংরা কার্মকান্ড তুলে আসলে সবই সম্ভব।কিন্তু বেতনহীন সাংবাদিক দের চলতে মাদকব্যবসায়ীরা তাদের পকেটে নিয়ে নেয়।ফলে অবৈধ কর্মকান্ডের লাইসেন্স তারা পেয়ে যায়।তাই সরকার কে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে মাদকমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে হবে।যারা মাদকাসক্ত আছে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।
মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কিছু বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।যেমন-
• মাদকাসক্তদের শারিরিক ও মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্হা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা
• মাদক ব্যবসা ও চোরা চালানের বিরুদ্ধে গনপ্রতিরোধ গড়ে তোলা
• ব্যাপক কর্মসংস্থানেরর সুযোগ সৃষ্টি
• সুস্হ বিনোদনের বিস্তার ঘটানো
• মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা মুলক প্রচারনার ব্যবস্হা করা
• মাদকদ্রব্য চোরাচালান রোধ করতে কঠোর আইন প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের ব্যবস্হা করা

পবিত্র কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে:-

হে রাসুল! মানুষ আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে।বলুন উভয়ের মধ্যেই রয়েছে মহাপাপ।যদিও তাতে মানুষের জন্য কিছুটা উপকারিতাও রয়েছে কিন্তু তাতে উপকারের চাইতে পাপের মাত্রাই বেশি।
(সুরা রাকারা:২১৯)

হে ঈমানদার গন!মদ,জুয়া,মুর্তিপুজা ও লটারি এ সবই ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ।তোমরা তা হতে বিরত থাক।আশা করা যায় যে,তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে।শয়তানতো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর জিকির ও নামাজের প্রতিবন্ধকতা করতে চায়।তাই তোমরা এসব জিনিস হতে কি বিরত থাকবে না?
(সুরা মায়িদা:৯০-৯১)

হাদীসে বলা হয়েছে:-
হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা) হতে বর্নিত রাসুল (সা) বলেছেন- যে লোক দুনিয়ায় মদ পান করলো অতপর তা থেকে তওবা করলো না সে আখিরাতে তা থেকে বঞ্চিত হবে।
(বুখারী শরীফ)
হাদীসে বিভিন্ন স্হানে সকল নেশা জাতীয় জিনিসকে হারাম বলা হয়েছে।

“রাসূল (সা) মদের ব্যাপারে দশজন ব্যক্তিকে লা‘নত করেন:-
• যে মদ বানায়
• যে মূল কারিগর
• যে পান করে
• বহনকারী
• যার নিকট
বহন করে নেওয়া হয়
• যে অন্যকে পান করায়
• বিক্রেতা
• যে লাভ খায়
• খরিদদার
• যার জন্য খরিদ করা হয়

মাদকের অপশক্তি সবচেয়ে গ্রাস করছে তরুন সমাজকে।সুতরাং মাদকদ্রব্যেরর অপব্যবহার বিস্তারের অর্থই হলো দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিপর্যয় পড়া।তাই মাদক দ্রব্য গ্রহনকাল শুরু হবার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
মাদকের অপশক্তির বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে ব্যাপক আন্দোলন।এ দায়িত্ব পরিবারের,সমাজের ও রাষ্ট্রের এবং প্রত্যেক মানুষকে হতে হবে বিবেকবান ও শুভবোধসম্পন্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর

- Advertisement -

জনপ্রিয় খবর

অন্যান্য সংবাদ